দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকায় তিনটি হোটেলের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। হোটেল তিনটি হলো বিচ পয়েন্ট, শশী মহল ও ইস্তানবুল।
কুয়াকাটায় পর্যটকদের আবাসন সুবিধা বাড়াতে প্রতিনিয়ত নির্মিত হচ্ছে নতুন নতুন হোটেল ও আবাসিক ভবন। তবে এসব স্থাপনা নির্মাণে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন।
মঙ্গলবার দুপুরে স্থাপনাগুলোর নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়ার পর কুয়াকাটা পৌরসভা ও কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ–সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার একটি ব্যানার হোটেল নির্মাণের জায়গায় টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ব্যানারে লেখা রয়েছে, এই স্থাপনাটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতীত নির্মাণের কারণে নির্দেশক্রমে কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হলো। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ সময় কুয়াকাটা সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসচিব ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান, কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক উপস্থিত ছিলেন।
যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না থাকা এবং স্থাপনা নির্মাণ আইন অনুসারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতীত ভবন নির্মাণ করা দণ্ডনিয় অপরাধ। তাছাড়া কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যানে এই জমি রেলওয়ে স্থাপনার জন্য বরাদ্দ দেওয়া আছে। এ কারণে স্থাপনাগুলোর নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী মৌজার এস এ ২৯২ নম্বর খতিয়ানে প্রায় ২১ একর ৬৬ শতক জায়গাজুড়ে ইস্তানবুলের প্রকল্প কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রকল্প এলাকায় একটি মসজিদ এবং কনভেনশন হলের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। এ বছর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর কুয়াকাটা পৌর এলাকার মুসল্লীয়াবাদ গ্রামসংলগ্ন এলাকায় ইস্তানবুল হোটেল নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। নির্মাণ প্রকল্প এলাকায় ইতিমধ্যে অন্তত ছয় একর ভূমির উন্নয়নসহ সীমানাদেয়াল করা হয়েছে।
এছাড়া জিরো পয়েন্ট এর পশ্চিম দিকে বীচ পয়েন্ট এবং শশী মহলের কাজ চলমান রয়েছে।।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায় ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) মাসুদ সাঈদী। তিনি জামায়াতের প্রয়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে।
কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদেক জানান, পৌরসভায় যেকোনো অনুমোদনবিহীন ভবন নির্মাণে আমরা বাধা দিচ্ছি ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি। ভবন নির্মাণ অনুমোদন এর সভা মাসে ১ বার হচ্ছে। গত দুই মাসে ৭টি ভবনের নির্মাণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ৩৫টি নির্মাণাধীন ভবনে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনাসংবলিত সাইনবোর্ড স্থাপন করেছে পৌরসভা। কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর সরকারি কোনো নির্দেশনা এখনো পাইনি।
ভবন নির্মাণের প্রস্তাব যাচাই ও অনুমোদনের বিষয়ে তিনি জানান, বিভাগীয় কমিশনার, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক, গণপূর্ত অধিদপ্তর (পিডব্লিউডি), স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক এবং নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সিনিয়র প্ল্যানারের সমন্বয়ে একটি কমিটি রয়েছে। কমিটি প্রস্তাবিত ভবনের নকশা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত দেয়।
তিনি আরও জানান, মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী, বেড়িবাঁধসংলগ্ন এলাকায় ভবনের উচ্চতা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে হবে।পাশাপাশি পরিকল্পিত নগর কাঠামো বজায় রাখতে ভবনের উচ্চতা ধাপে ধাপে বাড়ানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অর্থাৎ নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসারে ভবনগুলোর উচ্চতা সিঁড়ির ধাপের মতো ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে। তবে কুয়াকাটা পৌরবাসীর মধ্যে মাস্টারপ্ল্যান সম্পর্কে আরও ব্যাপক প্রচার ও সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন। মাস্টারপ্ল্যানে ভূমির ব্যবহার অনুযায়ী বিভিন্ন জোন বা অঞ্চল নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পর্যটক সেবা অঞ্চল, কৃষি অঞ্চল, বিমানবন্দর অঞ্চল, ক্রীড়া অঞ্চল ও রেলপথ অঞ্চলসহ বিভিন্ন শ্রেণির এলাকা। নির্ধারিত জোন অনুযায়ী ভূমির ব্যবহার ও স্থাপনা নির্মাণের নিয়ম অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কুয়াকাটার পর্যটনশিল্পের বিকাশের পাশাপাশি পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ। অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ, মাস্টারপ্ল্যানের নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা গেলে কুয়াকাটাকে আরও পরিকল্পিত, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
কে